চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন সেবা খাতে ৪১ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হলো।
রবিবার বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাই কোর্ট বেঞ্চ বাংলাদেশ মেরিটাইম ল’ সোসাইটির (বিএমএলএস) করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
আদালত এক রুলে এই বাড়তি শুল্ক কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে। নৌপরিবহন সচিব, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা অবশ্য এই সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কিছু চার্জ কমানোর অনুরোধও করেছেন তারা।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের চাপে আছি, যা গত মাসের রপ্তানিতেও প্রভাব ফেলেছে। এখন বন্দরের নতুন চার্জ ব্যবসায় আরও চাপ সৃষ্টি করবে।”
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন চার্জ কার্যকর করে, যা ১৯৮৬ সালের পর প্রথম বড় ধরনের বৃদ্ধি। বন্দরের ব্যবহারকারী ও বাণিজ্য সংগঠনগুলো শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, এই বৃদ্ধিতে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক উভয়ের খরচই বেড়ে যাবে।
রিট আবেদনে বলা হয়, নতুন শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী ২০ ফুট কনটেইনারের গড় চার্জ ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি আমদানি কনটেইনারে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ টাকা এবং প্রতি রপ্তানি কনটেইনারে প্রায় ৩ হাজার টাকার অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে পণ্য ওঠানামার (লোডিং ও আনলোডিং) চার্জও ৪৩ দশমিক ৪০ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬৮ ডলার করা হয়েছে।
বিএমএলএস তাদের আবেদনে যুক্তি দেখিয়েছে, মার্কিন ডলারে শুল্ক নির্ধারণ করায় বিনিময় হার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে খরচও ওঠানামা করবে। এর ফলে আমদানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে, ১৯০৮ সালের বন্দর আইন অনুযায়ী নতুন শুল্ক কার্যকর করতে গেজেট প্রকাশের পর অন্তত ৬০ দিন সময় দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই তা কার্যকর করা হয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন।
হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। যেকোনো স্থায়ী পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ করে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করার জন্য তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
ওমর |চখ
