পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে বনভুমির জায়গা থেকে অবৈধভাবে পাহাড়কাটার সময় মাটি চাপা পড়ে একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে টইটং ইউনিয়নের রমিজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম দিদারুল ইসলাম (৩৫)। তিনি একই এলাকার আবদুল কাদেরের পুত্র। তাকে চকরিয়া বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। মাটি চাপা পড়ে তাঁর একটি পা ভেঙে গেছে।
জানাগেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের বারবাকিয়া বনবিটের আওতাধীন টইটংয়ের রমিজ পাড়ায় সৌদি প্রবাসি সিরাজুল ইসলাম বনবিভাগের সংরক্ষিত জায়গায় গত এক সপ্তাহ ধরে শ্রমিক দিয়ে পাহাড় কেটে সমতল করছে। সেখানে দৈনিক ৭/৮ জন শ্রমিক পাহাড়কাটা কাজে নিয়োজিত রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা কোদাল দিয়ে মাটি কাটছিলেন। এসময় হঠাৎ উপর থেকে পাহাড় ধসে পড়ে দিদার মাটি চাপা পড়ে। অল্পের জন্য অন্য শ্রমিকরা রক্ষা পান।
স্থানীয়রা জানান, মুহাম্মদ হোসেনের পুত্র সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকেন। বনবিভাগের সংরক্ষিত জায়গা বসবাস করেন। পাকাবাড়ি নির্মাণের জন্য বসতবাড়ি লাগোয়া পাহাড়কেটে সমতল করছে গত এক সপ্তাহ ধরে। প্রতিদিন ৭/৮ জন শ্রমিক পাহাড়কাটা কাজে নিয়োজিত আছে। সিরাজের পিতা মুহাম্মদ হোসেন পাহাড়কাটার বিষয়টি দেখভাল করছেন। বনবিভাগের কর্মকর্তাদের মোটাঙ্কের টাকায় ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটছে। পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে একজন শ্রমিক আহত হন। দুর্ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। গোপনে আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতদিন বিষয়টি কৌশলে গোপন রাখে। পরে স্থানীয়দের মধ্যে খবরটি জানাজানি হলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে সিরাজুল ইসলাম এর পিতা মুহাম্মদ হোসেন বলেন, জায়গা সংকটের কারণে উঠানের জন্য সামান্য মাটি কাটছি। এখানে কোন ধরণের ঘর নির্মাণ করা হবেনা। মাটিচাপা পড়ে একজন শ্রমিক সামান্য আহত হয়েছে। আমরা তাঁর যাবতীয় চিকিৎসা খরচ বহন করছি।
এ ব্যাপারে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, পাহাড়কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। বনবিট কর্মকর্তাকে পাঠাচ্ছি। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
