বাবা মায়ের সাথে ঈদের ছুটিতে ইরা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। ইরার বয়স মাত্র তিন বছর। বয়স অনুযায়ী ইরা অনেক বেশি সুন্দর করে কথা বলে।গ্রামের উঠোনে ইরা, হাঁস মুরগি দেখে খুবই খুশি।ইরা প্রথম প্রথম ভয় পেলেও দাদুর সাথে থেকে ঠিকই হাঁস মুরগি গুলো কে বন্ধুর মতো মনে করছে।
ইরা নিজের খাবার হতে উঠোনের হাঁস মুরগির জন্য কিছুটা তুলে রেখেছে আর মায়ের অনুমতি নিয়ে সেগুলো দিয়েও এসেছে। এইভাবে ছোট্ট ইরা প্রতিদিন নিত্যনতুন বন্ধু করছে। বাড়িতে ছোটাছুটি করা পাখিদের ইরা হাত দিয়ে ডাকছে আর কথা বলছে।কুকুর দেখে ভয় পায় তবে দাদুর পাশে বসে থাকা শান্ত বিড়াল ইরার বেশ পছন্দের। ইরা বিড়ালকে খাবার খেতে দেয়।

গ্রামের বাড়ি এসে ইরা যখন তখন শুধু ডাস্টবিন খুঁজে। ইরা খাবারের অপ্রয়োজনীয় অংশ কিংবা ব্যবহার করা টিস্যু যেখানে সেখানে একদম ফেলতে চায় না।ইরা দাদুর কাছে বারবার বায়না ধরে আর বলে,দাদু, ডাস্টবিন কোথায়? ইরা আরও বলে দাদু, সবাই ময়লা গুলো সেখানে সেখানে কেন ফেলে দেয়? বাড়িতে উঠোনে খেলতে আসা সব বাচ্চাদের ইরা বারবার বলে,আচ্ছা, তোমরা সবাই এখানে ওখানে ময়লা ফেলে নোংরা করো কেন বলতো?গ্রামের সবাই এটাকে সাধারণ ভাবে দেখলেও ইরা যেন এটা কোন ভাবেই মানতে পারে না।
ইরার দাদু এই বিষয়টি খুব খেয়াল করেছেন আর বাজার থেকে একটা ডাস্টবিন আনার ব্যবস্থা করেছেন। ইরা ভীষণ খুশি।ইরা নিজে নিজে এদিক ওদিক থাকা ময়লা গুলো ডাস্টবিনে নিয়ে ফেলছে পাশাপাশি সবাইকে ডেকে ডেকে বলছে, এখন থেকে তোমরা সবাই ময়লা গুলো এখানে ফেলবে আর সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করে নিবে।ছোট্ট ইরার এমন কান্ড দেখে সবাই বেজায় খুশি।দাদু ইরাকে বুকে নিয়ে বলে,আচ্ছা দাদু আমরা সবাই এখন থেকে ডাস্টবিনে সব ময়লা ফেলবো।
