চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটিতে যানজট আর দুর্ঘটনা নিত্যদিনের সঙ্গী, এখানে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না, এক দিকে দুর্ঘটনা অন্য দিকে তীব্র যানজট, প্রতিনিয়ত যানজটে হাঁসফাঁস জনজীবন। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ৩ ঘন্টার পথ অথচ যেতে লাগে ৫ ঘন্টা, চট্টগ্রাম থেকে রওনা হয়ে বেশ কয়েকটা স্টেশন অতিক্রম করে পৌঁছাতে হয় কক্সবাজার। এসব স্টেশন, গুলোর মধ্যে বেশি যানজটে পড়তে হয় বললেন যাত্রীরা ।
এদিকে ১৪৮ কিলোমিটারের মহাসড়কের অন্তত মধ্যে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হাজিরাস্তা ও জাঙ্গালিয়া এলাকা গুলোতে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অদক্ষ চালক ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সাইনবোর্ড নাই যার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। আতঙ্কে দিন কাটছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ শুধু লোহাগাড়ার চুনতির জাঙ্গালিয়া পয়েন্টেই গত ছয় মাসে প্রাণ গেছে অন্তত ২৯ জনের, আহত হয়েছেন ৩ শতাধিক । পুরো মহাসড়কজুড়ে গত এক বছরে প্রাণ হারিয়েছেন আনুমানিক ১৩০ জন। আহতের সংখ্যা
ছাড়িয়েছে তিন শতাধিক।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যানবাহনের তুলনায় মহা সড়কটি অনেক সরু, মহাসড়কের ২ পাশে বিভিন্ন স্টেশনে অবৈধভাবে সড়কের ওপর গড়ে ওঠেছে অবৈধ গাড়ি পার্কিং এবং ভাসমান দোকান , অবৈধ স্থাপনা বাঁশের দোকান,কাঠের দোকান, এবং সড়কের পাশে বালির স্তূপ পয়েন্ট থেকে বালি লোড আনলোড ট্রাক মিনিট ট্রাকের ছড়াছড়ি এবং
ঘনঘন বিপজ্জনক বাঁক, অদক্ষ চালক, এছাড়া মহাসড়কে নিষিদ্ধ তিন চাকার সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা, ট্রলি নছিমন ভটভটি,রেগুনা, ও থ্রি-হুইলার ও বিভিন্ন কোম্পানির ছোট বড় পরিবহন সহ বিভিন্ন নামে-বেনামে যাত্রীবাহী বিভিন্ন কোম্পানির বাসের বেপরোয়া গতি এবং লবণবাহী ট্রাক থেকে ছিটকে পড়া পানির কারণে সড়কটি পিচ্ছিল থাকে। এসব কারণেই তামানো যাচ্ছেনা দুর্ঘটনা।
সড়কে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, বিভাজক না থাকা ও যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণেই মহাসড়কে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব সড়ক দুর্ঘটনা থামাতে এ মহাসড়কটি ৬ লাইনে উন্নিত করাসহ সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশের তদারকি বাড়ানো অতি দরকার। চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, ঝরে যাচ্ছে তাজা তাজা প্রাণ। দীর্ঘদিন ছয় লাইন করার আশ্বাস মিললে ও কোনরকম কার্যক্রম না থাকায় রাজপথে নেমেছেন স্থানীয় নাগরিকেরা। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লাইনে উন্নীত করার দাবিতে বিভিন্ন সময় সাতকানিয়ার কেরানী হাট, লোহাগাড়ায় স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
