চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন রেস্টহাউস প্রাঙ্গণে নগরে মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইবিষয়ক সমন্বয় সভায় বক্তব্য দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামের জনসংখ্যা ও যানজট বিবেচনায় গণপরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক সমাধান জরুরি।
মনোরেল হলো এমন একটি পরিবহন ব্যবস্থা যেখানে একটি মাত্র রেল বা বিম (beam) ব্যবহার করে ট্রেন চালানো হয়। এই ট্রেনগুলো মাটি থেকে উঁচুতে থাকা একটি একক রেলের ওপর দিয়ে বা নিচে ঝুলে ভ্রমণ করে। এটি যানজট এড়িয়ে দ্রুত যাতায়াতের জন্য একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব সমাধান, যেমনটি কিছু শহরে ব্যবহৃত হয়।
মনোরেল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী পাবেন যানজটমুক্ত, নিরাপদ, সময়নিষ্ঠ ও আরামদায়ক গণপরিবহনে যাতায়াতের সুবিধা। এতে কর্মঘণ্টা বাঁচবে, যানজট কমবে এবং নগর অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট ও পরিবেশবান্ধব শহরে রূপান্তরের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন রেস্টহাউস প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম নগরে মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইবিষয়ক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এ কথা বলেন।
সভায় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য চারটি রুটে মনোরেল চলাচলের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত (বহদ্দারহাট, চকবাজার, লালখান বাজার, দেওয়ানহাট ও পতেঙ্গা ) হয়ে ২৬.৫ কিলোমিটার, সিটি গেট থেকে শহীদ বশিরুজ্জামান চত্বর পর্যন্ত (এ কে খান, নিমতলী, সদরঘাট ও ফিরিঙ্গি বাজার ) হয়ে ১৩.৫ কিলোমিটার, অক্সিজেন থেকে ফিরিঙ্গি বাজার পর্যন্ত (মুরাদপুর, পাঁচলাইশ, আন্দরকিল্লা ও কোতোয়ালি) হয়ে ১৪.৫ কিলোমিটার, এবং সিটি গেট থেকে পোর্ট কানেক্টিং রোড হয়ে আগ্রাবাদ এক্সেস ও নিমতলা পর্যন্ত ১০.৯ কিলোমিটার।
প্রতিনিধি দল জানায়, প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে আনুমানিক ৩০ হাজার কোটি টাকা। মনোরেল চালু হলে ওরাসকম কোম্পানি যাত্রীপ্রতি অন্তত পাঁচ টাকা হারে সিটি কর্পোরেশনকে মুনাফা দেবে। প্রাথমিকভাবে ২০ থেকে ২৫ বছর প্রতিষ্ঠানটি নিজে পরিচালনার পর পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনকে প্রকল্পটি হস্তান্তর করবে। সেন্ট্রাল স্টেশন, স্টোরেজসহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আনুমানিক ৫০ একর জায়গা লাগবে এবং প্রতিদিন মনোরেল পরিচালনায় ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে।
সভায় জানানো হয়, সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন হতে সময় লাগবে আনুমানিক সাত থেকে আট মাস এবং নির্মাণকাজ শেষ করতে সময় লাগবে তিন থেকে চার বছর।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, মনোরেল প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী ফয়সাল রহমান, আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম কনস্ট্রাকশন কোম্পানির কান্ট্রি ডিরেক্টর কাউসার আহমেদ চৌধুরী এবং প্রকল্প পরামর্শকগণ।
