শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬

চট্টগ্রামে তৈরি ৩ ল্যান্ডিং ক্রাফট যাচ্ছে আরব আমিরাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের জাহাজ নির্মাতা ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে তৈরি ৩ জাহাজ রফতানি হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই)। মায়া, এমি এবং মুনা নামে তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর তীরে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে ইউএইর প্রতিষ্ঠান মারওয়ান অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি এলএলসির কাছে হস্তান্তর করা হবে ল্যান্ডিং ক্রাফট তিনিটি। আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের পর জাহাজগুলো আরব আমিরাতের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ল্যান্ডিং ক্রাফট তিনটিরই দৈর্ঘ্য ৬৯ মিটার, প্রস্থ ১৬ মিটার এবং ড্রাফট ৩ মিটার। আন্তর্জাতিক ক্ল্যাসিফিকেশন সোসাইটি ব্যুরো ভেরিটাসের মানদণ্ড অনুযায়ী নির্মিত এবং ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। প্রায় ৭০০ বর্গমিটার ক্লিয়ার ডেক স্পেস থাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও বাল্ক কার্গো পরিবহনে উপযুক্ত।

জাহাজগুলোতে রয়েছে দুটি ইয়ানমার মূল ইঞ্জিন, ইলেকট্রো-হাইড্রোলিক র‌্যাম্প উইঞ্চ, ২৪ মিলিমিটার স্টিল ওয়্যার রোপ, উন্নত অ্যাঙ্করিং ও হাইড্রোলিক স্টিয়ারিং ব্যবস্থা। নেভিগেশনের জন্য ইনস্টল করা হয়েছে সিমরাড এস৩০০৯ ইকো সাউন্ডার, ফুরুনো জিপি-৩৯ জিপিএস, নেভিট্রন এনটি-৮৮৮৬ অটোপাইলট, রাডার ও আন্তর্জাতিক মানের কমিউনিকেশন সরঞ্জাম।

এ নিয়ে চলতি বছর মোট ছয়টি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতে রফতানি করছে ওয়েস্টার্ন মেরিন। বছরের শুরুতে রায়ান নামে একটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং জুলাই মাসে খালিদ ও ঘায়া নামে দুটি টাগবোট রফতানি করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর এবার ৩৯তম জাহাজ রফতানি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্রমতে, ২০১০ সালে প্রথম জাহাজ রফতানি শুরু করে ওয়েস্টার্ন মেরিন। ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ্বে ১১টি দেশে ৩৩টি জাহাজ রফতানি করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ২০২০ সালের শুরুতে দুটি বাল্ক কেরিয়ার রফতানির পর মহামারিসহ নানা কারণে পরবর্তী চার বছর আর কোনো জাহাজ রফতানি করতে পারেনি তারা।

 

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি জাহাজের চাহিদা বাড়ছে আবারও। সেই সূত্র ধরে ২০২৩ সালে মারওয়ান শিপিংয়ের কাছ থেকে আটটি জাহাজ নির্মাণের অর্ডার পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে রফতানি কার্যক্রমে গতি পায়। আটটি জাহাজের মধ্যে রয়েছে— দুটি টাগবোট, চারটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং দুটি অয়েল ট্যাংকার।

এর মধ্যে চারটি ল্যান্ডিং ক্রাফট ও দুটি টাগবোট চলতি বছরই রফতানি করা হচ্ছে। বাকি দুটি অয়েল ট্যাংকার ২০২৬ সালের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। আমাদের জন্য এটা শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, পুরো দেশের জাহাজনির্মাণশিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারদের মতে, জাহাজ নির্মাণযাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১টি দেশে বিভিন্ন ধরনের ৩৬টি জাহাজ রফতানি করেছে ওয়েস্টার্ন মেরিন, যার বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক মারওয়ান শিপিংয়ের কাছে প্রথম জাহাজ রফতানি করা হয় ২০১৭ সালে।

২০২০ সালে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড এই প্রতিষ্ঠানের কাছে সর্বশেষ জাহাজ রপ্তানি করেছিল। সন্তুষ্ট হয়ে তারা পুণরায় আমাদের কাছে এসেছে। চুক্তির ৮টি জাহাজই ২০২৫ সালের মধ্যে মারওয়ান শিপিংয়ের কাছে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্ণধারেরা বলেন, জাহাজ তিনটি সম্পূর্ণভাবে ইউএই-ভিত্তিক ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নির্মিত। এগুলো অফশোর সাপ্লাই, মালবাহী পরিবহন এবং সমুদ্রবাণিজ্যের বিভিন্ন কাজে ব্যবহারযোগ্য। বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের পর জাহাজগুলো আরব আমিরাতের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে।

ওমর| চাখ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত