মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

উখিয়ার পশ্চিম ডিগিলিয়া রাবার ড্রাম্প এলাকায় মাদকচক্রের তাণ্ডব

উখিয়া প্রতিনিধি

উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম ডিগিলিয়া রাবার ড্রাম্প সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে মাদক সেবন, জুয়া, মদ ও গাঁজা সেবনের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড। সন্ধ্যার পরপরই এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠা এই অসামাজিক চক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ—নিয়মিত নজরদারি ও প্রশাসনিক কঠোরতার অভাবেই চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে রাবার ড্রাম্প রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন পথচারী মোস্তাফা মহসিন ও তাঁর বন্ধু। হঠাৎ মাদকাসক্ত একদল যুবক তাদের পথ আটকে দাঁড়ায়। কথা বলতে না বলতেই তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাদকসেবীরা তাদের মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু পথচারীরা প্রতিরোধ করলে তারা সটকে পড়ে যায়।

এরপর এলাকার লোকজন জড়ো হলে মাদকচক্রের সদস্যরা আবারও ফিরে এসে হামলার চেষ্টা চালায়। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়ে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের দাবি—ঘটনার সময় হামলাকারীরা সবাই মধ্যপ অবস্থায় ছিল।

এই ঘটনায় যাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন—নুরুল আমিন (পিতা: শামশুল আলম), শামশুল আলম (পিতা: মোহাম্মদ নাঈম), শফি উল্লাহ (পিতা: আলী আহাম্মদ), আবদুল্লাহ (পিতা অজ্ঞাত), ছালমান (পিতা: আব্দুর রহমান) এবং বেলাল (পিতা: গুরা মনির)। এরা সবাই ডিগিলিয়া ও ছারই রাস্তার আশপাশের বাসিন্দা। স্থানীয়দের মতে, এই চক্রটি রামদা, খিরিসসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাতে জামতলি ও রাবার ড্রাম্প এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাও নিশ্চিত হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজ নেতা বদিউল আলম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। মাদকসেবনের পর উন্মত্ত আচরণের কারণেই পথচারীদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হাসান বলেন, “এ বিষয়ে এখনও কোনও অভিযোগ পাইনি। তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, যথাযথ টহল ও নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে রাবার ড্রাম্প এলাকা আবারও নিরাপদ হয়ে উঠবে। এজন্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত