চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারহাটের সৈয়দপাড়া বড় মাওলানা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে শুক্রবার ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হলো পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিল। মুফতি সৈয়দ মছিহ উল্লাহ মির্জাপুরী (রহ:) মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের আয়োজনে দেশি-বিদেশি শত শত মুসল্লির অংশগ্রহণে মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
সৈয়দ মোহাম্মদ সাব্বিরের সঞ্চালনায়, জনাব সৈয়দ ফরিদ উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হজরতুলহাজ্ব আল্লামা হাফেজ সোলাইমান আনসারী (মা:জি:আ:)। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহমদ উল্লাহ ফোরকান খান আলকাদেরী।বিশিষ্ট আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মুহাম্মদ নেজামুর রহমান আলকাদেরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস আল্লামা হাফেজ সোলাইমান আনসারী (মা:জি:আ:) বলেন, “ঈদে মিলাদুন্নবী আমাদের আধ্যাত্মিক চেতনার কেন্দ্রবিন্দু। মহানবী (সাঃ)-এর জীবনাদর্শ মানবতার মুক্তির পথ।” তিনি প্রবাসীদের অবদান স্মরণ করে বলেন, “যেভাবে প্রবাসীরা এই মসজিদ উন্নয়নে আন্তরিক সহযোগিতা করছেন, তা ইতিহাস হয়ে থাকবে।”
মসজিদের খতিব কাজী সৈয়দ আবু সাঈদ বলেন, “বড় মাওলানা জামে মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়; বরং সমাজ সংস্কার, ঐক্য ও ইসলামি শিক্ষা বিস্তারের প্রাণকেন্দ্র।”
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ৩নং মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব সৈয়দ মুহাম্মদ আবু তালেব বলেন, “ঐতিহাসিক এই মসজিদ হাটহাজারীর মানুষের গৌরবের প্রতীক। সমাজ ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে এটি যুগ যুগ ধরে অবদান রেখে আসছে।”
এসময় মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “মসজিদটির সম্পূর্ণ কাজ এখনো বাকি আছে। তবে ইনশাল্লাহ আগামী ছয় মাসের মধ্যে সবার সহযোগিতা ও বিশেষ করে প্রবাসীদের সহায়তায় বাকি কাজগুলো সম্পন্ন হবে।”
মাহফিলে উপস্থিত একজন প্রবাসী তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রবাসীরা যে ধরনের সহযোগিতা করে আসছি, ইনশাল্লাহ মসজিদের বাকি কাজ সম্পন্ন করতেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাব। আজকে আমাদেরকে যেভাবে সম্মান দিয়ে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে, তা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। এতে আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছি।”
হামদ, নাত ও কেরাত পরিবেশনকারী পাঁচজনকে পুরস্কৃত করা হয়। এবং বড় মাওলানা জামে মসজিদের কাজে প্রাবাসীদের মধ্যে যারা আত্মিক সহযোগিতা করেছেন তাদের মাঝে ক্রেস তুলেদেন হাফেজ সোলাইমান আনসারী।
শেষে আখেরি মোনাজাতে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, দেশের উন্নয়ন এবং মসজিদের দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার জন্য দোয়া করা হয়। তাবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে মহাসমারোহ সমাপ্ত হয়।
