দ্বিতীয় শেণীর ছাত্রী অর্থী পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য সবকিছু মন দিয়ে করে।অর্থী আরবী পড়ে শুদ্ধ উচ্চারণের মাধ্যমে। অর্থীর বাবা চাকুরির জন্য ঢাকায় থাকেন আর মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। সেই হিসেবে অর্থী এবং চার বছরের ছোটো ভাই আদৃত নানুর কাছে নানু বাড়িতে থাকেন মায়ের সাথে।
গ্রামে থাকলেও অর্থী এবং আদৃত কে দেখে বুঝার উপায় নেই তারা গ্রামে থাকে। খুবই সুন্দর ভাবে কথা বলে তারা।
কথাবার্তা এবং দেখতে বাচ্চা দুটো আর সবার চাইতে আলাদা মনে হয়।এতো এতো সুন্দর ভাবে কথা বলে যেকেউ দেখলে তাদের আদর করে।
স্কুলে অর্থীকে সবাই অনেক আদর করে।অর্থীর বন্ধুরা অনেকেই অর্থীকে অনুকরণ করার চেষ্টা করে।বাবা ইব্রাহিম সাহেব শুক্রবার ছুটির দিনে অর্থী এবং আদৃত কে দেখতে আসেন।
অর্থী পড়ালেখার পাশাপাশি রঙ পেন্সিল দিয়ে চিত্রাংকন করতে পছন্দ করে।বাবা অর্থীর জন্য অনেকগুলো রঙ পেন্সিল নিয়ে আসে।অর্থী মনের মতো করে ফুল,ফল এবং পাখির ছবি আঁকতে থাকে।
কখনো নিজের মতো করে আঁকে, কখনও আবার বইয়ের ছবি দেখে আপনমনে আঁকতে থাকে। চার বছরের আদৃত অর্থীর সবকিছুকে অনুকরণ করে এমনকি আদৃত রঙ পেন্সিল নিয়ে আঁকতেও চায়।মা মিলি ম্যাডাম আদৃত কে কয়েকরকম রঙ পেন্সিল এনে দেয়।আদৃত একদম নিজের মতো করে আঁকতে থাকে আবার সেগুলো তে নিজের মতো করে অনেকগুলো রঙ করে।
কখনো একটা আধা বৃত্ত এঁকেই রঙ করে আর আধো আধো ভাষায় বলে, অর্থী আপু দেখো না কি সুন্দর আম এঁকেছি,আপেল এঁকেছি!
চার বছরের ছোট্ট আদৃত’র এইসব আঁকাআঁকি দেখে সবাই ভীষণ খুশি। অর্থী আগে বিরক্ত হলেও এখন ঠিকই ভাইকে সাহায্য করে এমনকি নিজের রঙ পেন্সিল দিয়ে অনেককিছু শিখিয়ে দিতে চেষ্টা করে।
লেখক – ছোট গল্পকার
