উখিয়া উপজেলার দক্ষিণ স্টেশন এলাকায় মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা প্রায় ১১ টন অবৈধ সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলা অভিযানে মেসার্স এস. কে অটো রাইচ মিলে মজুদ রাখা ২১৩ বস্তা অনুমোদনহীন সার জব্দ করা হয়।অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার ও উখিয়া থানার পুলিশ সদস্যরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উক্ত রাইচ মিলে মোট ৩০০ বস্তা সার অবৈধভাবে মজুদ করা ছিল। তবে অভিযানের সময় ২১৩ বস্তা (প্রায় ১১ টন) সার জব্দ করা সম্ভব হয়। বাকি ৮৭ বস্তা সার গোপনে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশিষ্ট সার উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে।অভিযানের সময় দোকান মালিক আবদুল্লাহ আল মামুন (৩৫) উপস্থিত থাকলেও কৌশলে পালিয়ে যান। এখনো তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির মালিক আলহাজ্ব এম. কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার বলেন, কৃষকদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে কেউ যদি অবৈধভাবে সার মজুদ বা পাচারের চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অভিযান তারই অংশ।”
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন,আমরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করেছি। যেসব ব্যক্তি এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন,চলতি মাসে বরাদ্দ ছিল ১১ টন সার, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত ১১ টন সার অবৈধভাবে মজুদ করেছে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার পাচারের চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা নিয়মিত নজরদারি করছি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
